এমেরিকায় কুলাউড়ার এক আলোকিত পরিবার!

Sharing is caring!

আবদুল আহাদ ::

মো. আসব আলী। কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের মিঠুপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দুই যুগ আগে স্বপরিবারে পাড়ি জমান স্বপ্নের দেশ এমেরিকায়। ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক তিনি। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে লেখাপড়া করিয়ে এই ৫ সন্তানকেই আজ বিভিন্ন পদে প্রতিষ্ঠিত করে আলোকিত পরিবারের জনক হিসাবে পরিনত হয়েছেন তিনি।

মো. আসব আলী বড় ছেলে সুমন রহমান। জয়চন্ডী ইউনিয়নের দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে এসএসসি পাশ করে পাড়ি জমান এমেরিকায়। সেখানে গিয়ে সিটি বিশ্ববিদ্যালয় অফ নিউইয়র্ক থেকে ১৯৯৯-২০০৪ সেশনে গনিতে অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপর পেনসলভেনিয়ার ড্রেক্সেল গবেষণা বিশ^বিদ্যালয় থেকে অর্থায়ন ও বিপনন বিভাগে সফলতার সাথে এমবিএ সম্পন্ন করেন। মেধাতৎপন্ন সুমন একপর্যায়ে সরকারী সিটি বিশ্ববিদ্যালয় অফ নিউইয়র্ক ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশিদের নজড় কাড়েন।

লেখাপড়ার পাশাপাশি লিড পিএম বিশ্লেষক হিসাবে কাজ শুরু করেন নিউইয়র্কের “সিটি” গ্লোবাল ইনভেষ্টম্যান্ট ব্যাংকে। এরপর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার হিসাবে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাজ করেন পেনসলভেনিয়ার ভ্যানগার্ড নামক বিখ্যাত বিনিয়োগ সংস্থায়। বর্তমানে সুমন রহমান কেপিএমজি নামক এমেরিকার একটি বিখ্যাত নেটওয়ার্ক সংস্থার প্রোগ্রাম বিতরণ পরিসেবার পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। যে সংস্থা থেকে বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিরীক্ষা, কর এবং পরামর্শমূলক পরিসেবা সরবরাহ করা হয়।

এদিকে সুমন রহমানের স্ত্রী রেবেকা রহমান সিলেট শাহ জালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএস ডিগ্রি অর্জন করে এমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে ভার্জিনিয়ার বিখ্যাত জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

মো. আসব আলীর একমাত্র মেয়ে সাবারা রহমান জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে এমেরিকার নৌবাহিনীর ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তাঁর স্বামীও একই ব্যাংকে কর্মরত আছেন। তবে তিনি বাংলাদেশের বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করে এমেরিকায় গিয়েছিলেন।

মো. আসব আলীর দ্বিতীয় ছেলে নওশের রহমান পেনসলভেনিয়ার বিখ্যাত টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে এমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক্সেসসেবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করছেন। অপর ছেলে রাহাত রহমান একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ডিগ্রি অর্জন করে এমেরিকার নৌবাহিনীর ব্যাংকে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ব বিখ্যাত ডার্ডেন স্কুল থেকে মাস্টার ডিগ্রি অর্জন করছেন। সব ছোট ছেলে তেীফিক ইমন বর্তমানে বিখ্যাত ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আর এসবের কারনেই মো. আসব আলীর স্ত্রী ২০১৪ সালে এমেরিকার সরকারী শিক্ষা বিভাগ থেকে স্বর্ণ পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। উনার তিন সন্তান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করায় রত্নগর্ভ মা হিসাবে তাকে এই পদকে ভূষিত করা হয়।

সব মিলিয়ে কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের এই পরিবারটি আজ স্বপ্নের দেশ এমেরিকায় কুলাউড়া তথা বাংলাদেশের একটি আলোকিত পরিবার হিসাবে প্রজল্লিত হয়েছে। এছাড়াও মো. আসব আলীর পরিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে নিজ এলাকার মানুষের সুখে-দুখে পাশে দাঁড়ানোরও নজির রয়েছে।

২৩ Views

Sharing is caring!

error: Content is protected !!