কুলাউড়া জয়চন্ডীতে টিলাকেটে রাস্তা নির্মাণ!

Sharing is caring!

বিশেষ প্রতিনিধি ::

কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি টাকায় টিলাকেটে দুটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এ দুটি রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে স্থানীয় লোকজন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন পরিদর্শণে গেলে দেখা যায়, ২০১৯ -২০ অর্থবছরে টি আর প্রকল্পে উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের রঙ্গীরকুল-পাঁচপীর জালাই রাস্তা নির্মাণে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৩২ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। একই অর্থ বছরে ইউনিয়নের কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে কালা মিয়ার বাড়ি থেকে অর্জুণকুর্মি স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

একটি কাজের দায়িত্ব পান জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. মনু মিয়া এবং অপর কাজটির প্রকল্প চেয়ারম্যান জয়চন্ডী ইউপির চেয়ারম্যান হলেও কাজ করান মেম্বার মনু মিয়া। কাজ বাস্তবায়নের শুরু থেকে স্থানীয় লোকজন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে স্থানীয় লোকজন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে লোকজন লিখিত অভিযোগ দেন নির্বাহী অফিসারকে।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, রঙ্গীরকুল- পাঁচপীর জালাই রাস্তা নির্মাণে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৩২ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এছাড়া কালা মিয়ার বাড়ি থেকে অর্জুণকুর্মি রাস্তায় ২ লাখ টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০-৭০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে।

এদিকে দু’টি রাস্তার কাজ বাস্তবায়নে মেম্বার মনু মিয়া একাধিক টিলা কেটে রাস্তা নির্মাণ করেন। রঙ্গীরকুল- পাঁচপীর জালাই রাস্তায় মলাঙ্গি এলাকায় প্রায় এক হাজার ফুট লম্বা টিলা ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর করে কাটা হয়। যেভাবে খাড়া করে টিলাকাটা হয়েছে, তাতে আগামী বর্ষা মৌসুমেই টিলা  ধ্বসে রাস্তায় পড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

ইউনিয়নের দিলদারপুর গ্রামের এলাইচ মিয়ার মাটি কাটার এসকোভেটর দিয়ে টিলা কাটার কাজ করা হয় এবং রাতের আধারে এই এলাইচ মিয়ার ট্রাক্টর দিয়ে কাটা মাটিগুলো অন্যত্র বিক্রি করা হয়। রাস্তা নির্মাণে যেটুকু টিলাকাটা হয়েছে সেই অংশ ছাড়া বাকি রাস্তায় কোদাল দিয়ে নামকাওয়াস্থে পরিষ্কার করে কাজ শেষ করা হয়েছে।

এব্যাপারে মেম্বার মনু মিয়া জানান, টিলা না কাটলে তো রাস্তা হবে না। রাস্তার ক্ষেত্রে পাহাড় কাটার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। পাহাড়ে যাইতেও রাস্তা লাগে। এটারে পাহাড় কাটা বলে না। কেউ অভিযোগ দিতেই পারে। তবে রঙ্গীরকুল- পাঁচপীর জালাই রাস্তার কাজের প্রজেক্ট চেয়ারম্যান আমি নয়, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন কমরু হচ্ছেন প্রজেক্ট চেয়ারম্যান।

কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী জানান, খবর পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। রঙ্গীরকুল-পাঁচপীর জালাই রাস্তার কাজে কিছু অনিয়ম হয়েছে। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, অভিযোগ আছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।#

১৫৯ Views

Sharing is caring!

error: Content is protected !!