কুলাউড়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের তেলেসমাতি;এম.আতিকুর রহমান আখই

Sharing is caring!

কুলাউড়া এক্সপ্রেসঃ এম.আতিকুর রহমান আখই।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুলাউড়া অফিসের আওতাধিন হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের তেলেসমাতিতে অতিষ্ঠ। কারনে অকারণে গ্রাহকদের হয়রানি,কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার,দালালদের দৌরাত্ম্য অার তথা কথিত শ্রমিক নেতাদের প্রভাব বিস্তারের কারনে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারনে এমনিতেই জনজীবন বিপর্যস্ত, ব্যবসায় মন্দাভাব, শিল্প ও কল কারখানা সহ কর্মজীবী মানুষের অর্থ উপার্জনের বিভিন্ন মাধ্যম প্রায় বন্ধ। সল্প অায়ের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। কেউবা ভিটা মাটি বন্ধক রেখে টাকা অানছেন চওড়া সুদে। বাসা ভাড়া, ব্যাংক ঋণ,গ্যাস বিল বিদ্যুৎ বিল বিভিন্ন এনজিওদের কিস্তি, ছেলে মেয়ের টিউশন ফি সহ নানা ব্যয় নির্বাহ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারের কর্তা ব্যক্তিকে।এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে দেয়া হচ্ছে ভুতুড়ে বিল, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ব্যবহারকৃত ইউনিটের চেয়ে ৩/৪ গুন বেশি ইউনিট উল্লেখ করে বিল দেয়া হচ্ছে। যা মিটারের রিডিং এর সাথে প্রদানকৃত বিলের কোন মিল নেই। অতিরিক্ত বিল প্রদানের কারন জানতে বার বার কুলাউড়া বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিলেও মিলছেনা কোন সদুত্তর। এ টেবিল থেকে ঐ টেবিল এভাবে ঘুরপাক খেতে হচ্ছে নিরীহ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের,উল্টো সময় শ্রম ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। দয়া বিতরনে দু একজন কর্মকর্তা কর্মচারী ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শুনলেও এই বলে সমাধান দিচ্ছেন যে এই বিল দিয়ে দেন, পরবর্তীতে সমন্বয় করে দেয়া হবে।
এছাড়া কুলাউড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। এক সময় বড় ধরনের ঝড় তুফান হলে বা কোন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হলে সাময়িক সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতো। কিন্তুু এখন কোন ধরনের ঝড়, তুফান, বৃষ্টি বা বাতাস না থাকলেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়।এতে করে একদিকে যেমন ছাত্র / ছাত্রীদের পড়া লেখায় বিঘ্ন ঘটছে অন্যদিকে করোনা কালিন সময়ে বিভিন্ন রোগে অাক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। দিনে রাতে একাধিক বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিলেও অভিযোগ করার যেন কোন জায়গা নেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। যে কোন অভিযোগ বা সমস্যা অবগত করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ কুলাউড়ার একটি মোবাইল নম্বর (০১৭৯৬৬৪৪৯৩৭)থাকলেও বার বার কল করার পরেও রিসিভ করেননা কেউ। ভাগ্যক্রমে মাজে মধ্যে রিসিভ করলেও সমস্যা শুনার অাগেই দেখছি বলে লাইন কেটে দেয়া হয় বলে অনেকের অভিযোগ।
উপরোক্ত অভিযোগ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুলাউড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সামছ্ ই অারিফিন এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,করোনা কালিন সময়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার দেখে রিডিং দেয়াটা সকলের জন্য ঝুঁকিপুর্ন থাকায় অামার কোন অনুমতি ছাড়াই কয়েকজন কর্মচারী অনুমান নির্ভর বিল দিয়েছেন, অামি এগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এছাড়া কোন গ্রাহক যদি দুর্ব্যবহার,হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হন তাহলে লিখিত ভাবে অামাকে জানালে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২২৮ Views

Sharing is caring!

error: Content is protected !!